বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর সেই পার্বণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন দেবতারা। ক্যালেন্ডারের পাতায় বা ঠাকুরঘরে আমরা যে মহাদেবের ছবি দেখি, সেখানে তাঁর জটা থেকে গঙ্গার ধারা নামতে দেখা যায়। কিন্তু কেন মহাদেব গঙ্গাকে নিজের জটায় ধারণ করলেন? আর কেনই বা তাঁকে 'ত্রিপুরারি' বা 'মহাদেব' বলা হয়? এর পেছনে লুকিয়ে আছে পুরাণের রোমাঞ্চকর সব গল্প।
রাগ-রাগিনীর অভিশাপ ও গঙ্গার জন্ম
গঙ্গার উৎপত্তির গল্পটি শুরু হয় এক অদ্ভুত ঘটনার মাধ্যমে। পুরাণে প্রতিটি রাগ-রাগিনী এক-একটি জীবন্ত চরিত্র। তারা অমরাবতীতে গান-বাজনা করতেন। একবার সব রাগ-রাগিনী জেদ ধরলেন যে তারা আর গান গাইবেন না। কারণ? মহর্ষি নারদের বেসুরো গান! নারদের ভুল সুরে গান গাওয়ার ফলে রাগ-রাগিনীরা বিকলাঙ্গ হয়ে পড়েছিলেন।
তাঁরা শর্ত দিলেন, যদি মহাদেব তাঁর সুললিত কণ্ঠে গান গান, তবেই তাঁরা সুস্থ হবেন এবং অমরাবতীতে ফিরবেন। শিব রাজি হলেন একটি শর্তে— শ্রোতা হিসেবে ব্রহ্মা ও বিষ্ণুকে থাকতে হবে। মহাদেবের সেই স্বর্গীয় সংগীত শুনে বিষ্ণু এতটাই বিগলিত হলেন যে তাঁর দেহ থেকে জলধারা বইতে শুরু করল। ব্রহ্মা সেই জল তাঁর কমন্ডলুতে ভরে নিলেন। বিষ্ণুর এই বিগলিত অংশ থেকেই কিন্তু গঙ্গার জন্ম।
📜 সগর রাজার বংশ ও কপিল মুনির অভিশাপ
গঙ্গা কীভাবে পৃথিবীতে এলেন, তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইক্ষাকুবংশের রাজা সগরের কাহিনী। রাজা শততম অশ্বমেধ যজ্ঞের আয়োজন করলে ইন্দ্র যজ্ঞের ঘোড়াটি কপিল মুনির আশ্রমে লুকিয়ে রাখেন।
🔥 রোষানল: সগর পুত্ররা মুনিকে অপমান করলে তাঁর রোষানলে ৬০ হাজার পুত্র ভস্মীভূত হন।
🌊 মুক্তির পথ: তাঁদের আত্মার মুক্তির জন্য ভগীরথ স্বর্গ থেকে গঙ্গাকে মর্ত্যে নামিয়ে আনার কঠিন ব্রত গ্রহণ করেন।
শিবের জটায় গঙ্গার বন্দি হওয়া
গঙ্গার প্রচণ্ড বেগ ধারণ করতে একমাত্র মহাদেবই সক্ষম ছিলেন। গঙ্গা যখন সগর্বে আকাশ থেকে নেমে আসছিলেন, শিব তাঁর দম্ভ চূর্ণ করতে জটা খুলে দিলেন। গঙ্গা জটাজালে বন্দি হলেন। পরে ভগীরথের প্রার্থনায় মহাদেব গঙ্গাকে সাতটি ধারায় মুক্ত করেন— হ্লাদিনী, পাবনী, নলিনী, সচক্ষু, সীতা, সিন্ধু ও ভাগীরথী।
শিব কেন 'মহাদেব' ও 'ত্রিপুরারি'?
অসুরদের দমনে দেবতারা তাঁদের তেজের অর্ধেক শিবকে দান করেছিলেন। দেবতাদের সম্মিলিত তেজে তিনি সবার উপরে স্থান পান এবং পরিচিত হন 'মহাদেব' নামে।
এক বাণে তিনটি অসুর নগরী ভস্মীভূত করে মহাদেব বিজয় লাভ করেন। এই অসামান্য সাফল্যের পরই তাঁর নাম হয় ত্রিপুরারি।
![]() |
| শিবের বাণ — অন্যায়ের বিনাশ, সত্যের জয়। |
এই পৌরাণিক কাহিনীগুলো আমাদের শেখায় ভক্তি, বিনয় এবং অন্যায়ের বিনাশ কীভাবে সম্ভব। শিবের জটায় গঙ্গা কেবল একটি ছবি নয়, এটি একটি বংশের মুক্তি এবং প্রকৃতির শক্তির এক মিলনস্থল।
আমাদের পক্ষ থেকে আপনাকে ও আপনার পরিবারকে জানাই মহা শিবরাত্রির অনেক অনেক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। এই ব্লগের প্রতিটি কাহিনী এবং ছবি আপনার কেমন লেগেছে তা আমাদের কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আপনার একটি মতামত আমাদের আগামী দিনের কাজের অনুপ্রেরণা।
শিবের জটায় গঙ্গার মুক্তি এবং ত্রিপুরারি যুদ্ধের এই অলৌকিক কাহিনীগুলো আমাদের লোক-সংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ। এই বিষয়ে আরও গভীর তথ্য ও ভিডিও বিশ্লেষণ দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে যুক্ত হোন।
🎬 Subscribe to Abhikaron(দ্রষ্টব্য: এই ব্লগে ব্যবহৃত ছবিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা শৈল্পিক উদ্দেশ্যে নির্মিত।)


