নেতাজি ভবন ও মিউজিয়াম: কলকাতায় নেতাজির গ্রেট এস্কেপের গল্প

লালপেঁচা (LalPecha.in)
0

🕯️ ইতিহাসের সেই রুদ্ধশ্বাস রাত: মহানিষ্ক্রমণ

২৩শে জানুয়ারির বিশেষ নিবেদন

দেখতে দেখতে আবার চলে এল ২৩শে জানুয়ারি। সেদিন কলকাতার অ্যালেনবি রোড দিয়ে যাওয়ার সময় ভুল করে একটি অচেনা রাস্তায় ঢুকে পড়তেই হঠাৎ চোখে পড়লো নেতাজি ভবন—এই বাড়িটির গুরুত্ব নেতাজি ভক্তদের কাছে নতুন করে বলার কিছু নেই।

আজ থেকে ঠিক ৮৫ বছর আগে, ১৬ জানুয়ারি ১৯৪১-এ, ব্রিটিশদের কঠোর নজরদারিকে ফাঁকি দিয়ে সুভাষচন্দ্র বসু এই বাড়ি থেকে আফগানিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা দেন বিহারের গোমো স্টেশনে (বর্তমানে ঝাড়খণ্ড)। ইতিহাসে এই রোমাঞ্চকর ঘটনাই “নেতাজির মহানিষ্ক্রমণ” নামে অমর হয়ে আছে।

🔐 একটি অকথিত গোপন রহস্য ও ইলা বসু

নেতাজি সেদিন ছদ্মবেশে ছিলেন মহম্মদ জিয়াউদ্দিন। কিন্তু সেই রাতের আসল নেপথ্য কারিগর ছিলেন তাঁর ভাইজি ইলা বসু (সুরেশচন্দ্র বসুর দ্বিতীয় কন্যা)। একমাত্র তিনিই জানতেন সেই মহানিষ্ক্রমণের রহস্য।

নেতাজি চলে যাওয়ার পর তাঁর ঘরে আলো জ্বেলে শুয়েছিলেন ইলাদেবী, যাতে বাইরে থেকে মনে হয় ‘রাঙাকাকু’ ঘরেই আছেন। এমনকি নেতাজি বেরিয়ে যাওয়ার পর সন্দেহ এড়াতে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘরে চুপচাপ শুয়ে থাকতেন এবং পরবর্তী কয়েকদিন খাবার দেওয়ার ভান করতেন। যেন সময় থমকে আছে সেই ঘরেই।

🌸

দক্ষিণেশ্বরের সেই আশীর্বাদ

ভারত ছাড়ার আগে নেতাজি সাথে নিয়েছিলেন দক্ষিণেশ্বর কালীমায়ের পায়ের ফুল। মহানিষ্ক্রমণের কয়েকদিন আগে তিনি ইলাদেবীকে পাঠিয়েছিলেন মন্দির থেকে সেই ফুল ও চরণামৃত আনতে। মাতৃভক্ত বীরপুত্রের যাত্রাপথের চিরসঙ্গী ছিল মায়ের সেই আশীর্বাদ।

স্মৃতির পাতায় আজও জীবন্ত সেই ১৬ই জানুয়ারির মধ্যরাত...

চলুন নেতাজি ভবন সংগ্রহশালায় প্রবেশ করি। এই বাড়িটি তৈরি করেছিলেন নেতাজির পিতা জনকীনাথ বসু ১৯০৯ সালে। যদিও নেতাজি কটক শহরে জন্মেছিলেন, বাল্যকাল ও কৈশোর কাটিয়েছেন এই বাড়িতেই। বর্তমানে সুন্দরভাবে সংরক্ষিত এই বাসভবনটি নেতাজি মিউজিয়াম ও নেতাজি গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হয়।

১৯৪৭ সালের ২৩ জানুয়ারি, নেতাজির দাদা ও বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী শরৎচন্দ্র বসু এই ঐতিহাসিক বাড়িটি জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন—যাতে দেশবাসী চিরদিন নেতাজির আদর্শ ও আত্মত্যাগকে স্মরণ করতে পারে। এই বাড়িতেই নেতাজির ভ্রাতুষ্পুত্র ডা. শিশির কুমার বসুর নেতৃত্বে তৈরি এই জাদুঘরটি, ১৯৬১ সালে নেতাজি রিসার্চ ব্যুরো (NRB)-র উদ্যোগে গড়ে ওঠে নেতাজি মিউজিয়াম। আজকের ঠিকানা ৩৮/২ লালা লাজপত রায় সরণি, আগেকার ৩৮/২ এলগিন রোড।

📚 কৃষ্ণা বসু ফ্রিডম লাইব্রেরি

প্রবেশের পর প্রথমেই নেতাজি রিসার্চ ব্যুরোর ফ্রিডম লাইব্রেরি, এখান থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়, চাই তা অনলাইনে বা অফলাইনে। এখানে অনেক দুর্লভ পুরনো বই, পত্রিকা এবং NRB-এর জার্নাল The Oracle (যা জানুয়ারি ১৯৭৯ থেকে প্রকাশিত হচ্ছে) রক্ষিত। ২০২০ সালে লাইব্রেরিটিকে প্রফেসর কৃষ্ণা বসুর সম্মানে ‘কৃষ্ণা বসু ফ্রিডম লাইব্রেরি’ নামকরণ করা হয়।

টিকেট মূল্য (বর্তমান): আগে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা ও শিশুদের জন্য ১০ টাকা ছিল। এখন সেটা বৃদ্ধি পেয়ে—প্রাপ্তবয়স্কদের টিকেট ৫০ টাকা এবং ১২ বছরের নিচের শিশুদের ২০ টাকা করা হয়েছে।

টিকিট সংগ্রহ করার পর এগোতেই দর্শনার্থীদের চোখে পড়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ঐতিহাসিক ‘ওয়ান্ডারার’ (Wanderer) গাড়িটি। যে গাড়িতে করে একসময় শিশির বসু নেতাজিকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন স্বাধীনতার পথে।

তার পরেই, দ্বিতীয় ও প্রধান পোর্টিকোর মাঝখানে চোখে পড়ে লাল পাথরে নির্মিত INA শহিদ স্মৃতিস্তম্ভের একটি প্রতিরূপ, নীরবে দাঁড়িয়ে ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে। এর প্রথম রূপ গড়ে উঠেছিল ১৯৪৫ সালের আগস্ট মাসে, সিঙ্গাপুরের সমুদ্রতটে। কিন্তু ব্রিটিশ বাহিনী সিঙ্গাপুর পুনর্দখল করার পর, ১৯৪৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেই মূল স্মৃতিস্তম্ভটি ধ্বংস করে দেয়।

🚩 ইতিহাসের পথে যাত্রা শুরু...
 

🇮🇳 আজাদ হিন্দ ফৌজের মূলমন্ত্র


নেতাজির আদর্শের সেই অমর তিনটি শব্দ:

১. ইত্তেফাক
(ঐক্য)

একতাই বল, সকল ভেদাভেদ ভুলে এক হওয়া।

২. ইতমাদ
(আস্থা)

নিজের লক্ষ্য ও স্বাধীনতার ওপর অটল বিশ্বাস।

৩. কুরবানি
(ত্যাগ)

দেশের জন্য নিজের জীবন ও সুখ বিসর্জন দেওয়া।

"এই শব্দ তিনটি নেতাজির আদর্শকে পাথরের বুকে চিরস্থায়ী করে রেখেছে।"

জয় হিন্দ!

👣 ঐতিহাসিক ‘গ্রেট এস্কেপ’-এর সূচনা

স্মৃতিস্তম্ভের সামনে থেকে দর্শনার্থীরা ডানদিকে ঘুরে বাড়িটির পুরনো কাঠের সিঁড়ি বেয়ে প্রথম তলায় উঠে যাবেন। সেখানে বাঁদিকে ঘুরে লম্বা বারান্দা ধরে এগোতেই সামনে আসে এক বিশেষ কক্ষ—'নেতাজির শয়নকক্ষ'

এই ঘরের দিকে এগোতে গিয়েই দর্শনার্থীরা মেঝেতে পড়ে থাকা পায়ের চাপের চিহ্ন লক্ষ্য করেন। কারণ এখান থেকেই, ১৯৪১ সালের জানুয়ারিতে, শুরু হয়েছিল তাঁর জীবনের সেই রুদ্ধশ্বাস অধ্যায়—ঐতিহাসিক ‘গ্রেট এস্কেপ’

*এলগিন রোডের এই বাড়িটি আজও সেই মহান বিপ্লবের নীরব সাক্ষী।

🕰️

সময় যেখানে থমকে দাঁড়িয়েছে

শয়নকক্ষের দরজার ঠিক বাইরে থেকে শুরু হয়ে পায়ের ছাপগুলো করিডরের পুরো দৈর্ঘ্য জুড়ে বিস্তৃত। ১৭ জানুয়ারি ১৯৪১, রাত ১টা ৩০ মিনিট; আঙুলের ভর দিয়ে নিঃশব্দে হাঁটতে হাঁটতে নেতাজি যে পথে বাড়ির পেছনের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন, এই পায়ের ছাপ ঠিক সেই পথেরই এক নীরব নির্দেশক।

১৯৩৭ সালের অক্টোবর মাস থেকে এই ঘরেই বসবাস করতেন সুভাষচন্দ্র বসু। যে অবস্থায় তিনি সেদিন নিঃশব্দে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, আজও ঠিক সেইভাবেই কক্ষটি সংরক্ষিত রয়েছে। মনে হয় যেন আজও সেই মধ্যরাতের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে এই দেওয়ালগুলো।
👣 . . . 👣 . . . 👣

ঐতিহাসিক মহানিষ্ক্রমণের সাক্ষী

📦 শয়নকক্ষের অমূল্য স্মৃতি

এই ঘরের ভেতরে রয়েছে জনকীনাথ বসুর চারখানা খুঁটিযুক্ত শয্যা, আর তার পাশেই নেতাজির ব্যবহৃত সেই সাধারণ খাটটি। চারপাশে ছড়িয়ে আছে তাঁর রেখে যাওয়া নিত্যদিনের সামগ্রী:
ব্যক্তিগত ব্যবহার্য আধ্যাত্মিক ও অন্যান্য
পোশাক, জুতো ও স্যুটকেস ভগবদ্গীতার নিজস্ব কপি
আয়ুর্বেদিক ওষুধ নিত্যদিনের ব্যবহৃত সামগ্রী

🏛️ শরৎ বসু কক্ষ

নেতাজির শয়নকক্ষের পরেই রয়েছে শরৎ বসু কক্ষ। এই ঘরটি নেতাজির আজীবন বিশ্বস্ত সহচর শরৎচন্দ্র বসুর স্মৃতিতে ভরপুর। এখানে রাখা আছে তাঁর ব্যবহৃত আসবাবপত্র ও নানা ব্যক্তিগত সামগ্রী। ঘরের চারপাশের দেয়ালজুড়ে ঝুলছে তাঁর কর্মময় জনজীবনের বিভিন্ন অমূল্য ছবি, যা এক জীবন্ত ইতিহাস।

"প্রতিটি বস্তু যেন আজও সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা জানান দেয়।"

🏛️ কংগ্রেস সভাপতির ঐতিহাসিক কার্যালয়

১৯৩৮ - ১৯৩৯: এক সোনালী অধ্যায়

শরৎ বসু কক্ষ থেকে বেরিয়ে দর্শনার্থীরা বাঁদিকে ঘুরে প্রথম তলার লম্বা পিছনের বারান্দা ধরে এগিয়ে যান। তারপর আবার বাঁদিকে ঘুরে তাঁরা পৌঁছে যান সেই বিশেষ কক্ষে—যেটি ১৯৩৮ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে নেতাজির কার্যালয় ছিল।
🎨 কক্ষের বর্তমান অবস্থা:
  • ঘরের দেয়াল আজও সেই সময়ের মতোই জাতীয় ত্রিবর্ণে রঙ করা।
  • পুরো কক্ষটি সংরক্ষিত রয়েছে ঠিক যেমনটি ছিল নেতাজির কর্মব্যস্ত দিনে।
  • এখানেই পরিকল্পিত হয়েছিল ভারতের আগামীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

📍 নেতাজি ভবন, এলগিন রোড


📜 কার্যালয়ের অন্দরমহল

🪑 কর্মব্যস্ততার স্মৃতি:

এই কক্ষে ঢুকলেই চোখে পড়ে নেতাজির সেই ঐতিহাসিক কাজের ডেস্কটি এবং তার সঙ্গে থাকা সেই বিখ্যাত ঘূর্ণায়মান চেয়ার

📚 অমূল্য সংগ্রহ:

কাচে ঘেরা আলমারিগুলিতে যত্ন করে সাজানো রয়েছে ১৯৩০-এর দশকের শেষভাগের নানা বই ও পত্রপত্রিকা

কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীর কাছ থেকে পাওয়া উপহার ও স্মারকগুলো এখানে অত্যন্ত সম্মানের সাথে সংরক্ষিত রয়েছে। প্রতিটি বস্তু যেন সেই সময়ের বিশ্বরাজনীতিতে নেতাজির প্রভাবের কথা মনে করিয়ে দেয়।

"ইতিহাসের পাতায় ঘেরা এই কক্ষটি আজও দেশপ্রেমের অনুপ্রেরণা জোগায়।"

ডেস্কের এক পাশে আজও রাখা আছে একটি চরকা—ঠিক যেমনটি সেই সময়ে ছিল। আর যে সোফাগুলিতে বসে একদিন মানুষ নেতাজির সঙ্গে দেখা করতেন, সেগুলিও আজ সংরক্ষিত অবস্থায় দর্শনার্থীদের সামনে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে আছে।

🏙️ ঐতিহাসিক টেরেস

প্রথম তলার বারান্দার মাঝামাঝি অংশে রয়েছে একটি স্বতন্ত্র ছাদঘেরা বারান্দা বা টেরেস, যা প্রধান পোর্টিকোর উপর দিয়ে ড্রাইভওয়ের দিকে এগিয়ে এসেছে। এই টেরেসেহই ১৯৩৭ সালে বসু ভ্রাতৃদ্বয়—শরৎ ও সুভাষ-এর সেই বহুল পরিচিত বসা অবস্থার আলোকচিত্রটি তোলা হয়েছিল। এখানেই দাঁড়ানো অবস্থায় তোলা নেতাজির আরও কয়েকটি আলোকচিত্র দেখা যায়। টেরেসে দাঁড়ালে দর্শনার্থীরা নেতাজি ভবনের দুই দিকেরই মনোরম দৃশ্য একসঙ্গে উপভোগ করতে পারেন।

নেতাজি ভবনের বিস্তৃত দ্বিতীয়, অর্থাৎ শীর্ষ তলাটি আলোকচিত্র, নথিপত্র ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের সামগ্রীর এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার। এই তলায় সাজানো প্রদর্শনীগুলি ভারতের স্বাধীনতার জন্য নেতাজির সংগ্রামকে যেন জীবন্ত করে তোলে।

শিশির বসু ইউরোপীয় জাদুঘর-ভাবনার আদর্শে—বিশেষ করে প্যারিসের কাছে ভার্সাই প্রাসাদে নেপোলিয়নের যুগ ও শাসনামলের প্রদর্শনী থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে—এই জীবনভিত্তিক জাদুঘরের নকশা তৈরি করেছিলেন।

🏛️ জীবন্ত ইতিহাসের এক অনন্য নিদর্শন

নেতাজির জীবনের কাহিনি এখানে সুসংবদ্ধভাবে কালানুক্রমিক ধারায় উপস্থাপিত। পুরো জাদুঘরটি বিস্তৃত তিনটি কক্ষে—সেন্ট্রাল গ্যালারি, ইউরোপ রুম এবং এশিয়া রুম। বিশেষ আলোকসজ্জা ও গ্যালারি কৌশল প্রদর্শনীগুলিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

এই তলায় রয়েছে তিনটি ইন্টার‌্যাকটিভ কিয়স্ক—দুটি সেন্ট্রাল গ্যালারিতে এবং একটি এশিয়া রুমে—যেগুলির মাধ্যমে দর্শনার্থীরা নেতাজির জীবন, সংগ্রাম এবং নেতাজি রিসার্চ ব্যুরো-র ইতিহাস ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানতে পারেন।

📜 সেন্ট্রাল গ্যালারি: মহানিষ্ক্রমণ পর্যন্ত

সেন্ট্রাল গ্যালারিতে নেতাজির জীবনের কাহিনি ধাপে ধাপে তুলে ধরা হয়েছে—তাঁর জন্ম থেকে শুরু করে ১৯৪১ সালের জানুয়ারির ঐতিহাসিক ‘গ্রেট এস্কেপ’ পর্যন্ত। এই গ্যালারির শুরুই হয় এক আবেগঘন দলিল দিয়ে—জনকীনাথ বসুর ডায়েরির ১৮৯৭ সালের ২৩ জানুয়ারির সেই পৃষ্ঠাটি, যেখানে দুপুর নাগাদ সুভাষচন্দ্রের জন্মের কথা লেখা রয়েছে।

আলোকচিত্র ও নথিপত্রের ধারায় আমরা ধীরে ধীরে সুভাষচন্দ্রকে আবিষ্কার করি—এক রহস্যময় দীপ্তিসম্পন্ন কিশোর হিসেবে, কেমব্রিজের ছাত্র হিসেবে, ভারতে ফিরে এক নিষ্ঠাবান স্বরাজ্যবাদী রূপে, বার্মার মান্দালয়ে এক রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে এবং ১৯২৮ সালে কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে ভলান্টিয়ার কোরের জিওসি (GOC) হিসেবে।

জিওসি থাকাকালীন তাঁর ব্যবহৃত সামরিক পোশাক—টুপি ও বুটসহ—একটি কাচঘেরা দাঁড়ানো প্রদর্শনীতে রাখা আছে। পাশাপাশি দেখা যায় তাঁর আসল পাসপোর্টগুলি এবং বার্মার বন্দিদশা থেকে সঙ্গে করে আনা কিছু স্মারক—একটি মার্বেলের বুদ্ধমূর্তি ও খোদাই করা সেগুন কাঠের চেয়ার

⏳ ইতিহাসের পাতায় অমর এক বীরের পথচলা...

🌍 ইউরোপে সুভাষ চন্দ্র বসু (১৯৩৩-১৯৩৬)

এর পরের অংশে তুলে ধরা হয়েছে ১৯৩৩ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত ইউরোপে সুভাষ বসুর সময়কাল। এই সময়ে তিনি ইউরোপে ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ দূত হিসেবে কাজ করেন। প্রদর্শনীতে দেখা যায় ইউরোপের নানা রাজধানীতে তাঁর সফর, প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ভারতীয় ও মৈত্রীসংঘ গঠনের প্রচেষ্টা।

তাঁকে নিয়ে ইউরোপীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলি দর্শনার্থীদের বিশেষ আগ্রহ আকর্ষণ করে। এই সময়ে এবং পরে ১৯৩৭ সালের শেষভাগে ইউরোপে তোলা বহু ছবিতে দেখা যায় তাঁর দীর্ঘ ভারতীয় ধাঁচের কোট, ভারী ওভারকোট ও টুপি—যেগুলি এখানেই সংরক্ষিত রয়েছে।

এরপর কাহিনি ফিরে আসে ভারতে। আমরা সুভাষচন্দ্র বসুকে দেখি ১৯৩৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুজরাটের হরিপুরায় কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে এবং সেই বছরই ন্যাশনাল প্ল্যানিং কমিটির উদ্বোধন করতে। তাঁর সভাপতিত্বকালীন মেডেলিয়ন-ধাঁচের টাই এই অংশের অন্যতম প্রদর্শিত বস্তু।

এরপর আসে ১৯৩৯ সালে গান্ধিজির সঙ্গে তাঁর মতভেদের অধ্যায়। দুই নেতার পারস্পরিক চিঠিপত্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও উত্তেজনাপূর্ণ অংশ এখানে তুলে ধরা হয়েছে। এই পর্বেই জানা যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুভাষচন্দ্রকে ‘দেশনায়ক’ অভিধায় ভূষিত করেছিলেন।

🕯️ মহানিষ্ক্রমণের সেই শেষ মুহূর্ত

সেন্ট্রাল গ্যালারির পরিসমাপ্তি ঘটে গ্রেট এস্কেপ-এর ঘটনায়। ১৯৪১ সালের ১৬ জানুয়ারি রাতে, ৩৮/২ এলগিন রোডে শেষবারের মতো আহারের সময় নেতাজি যে রেশমি ধুতি ও চাদর পরেছিলেন, সেগুলি এখানে প্রদর্শিত রয়েছে। সেই সঙ্গে রাখা আছে ওই আহারে ব্যবহৃত মার্বেলের থালা ও বাটি—নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণের।

গ্যালারির একেবারে শেষ প্রান্তে একটি বড় পর্দার টেলিভিশনে দর্শনার্থীরা দেখতে পান ১৯৩৮ সালে হরিপুরায় নেতাজির ঐতিহাসিক সভাপতিত্বকালীন ভাষণ এবং ১৯৩৯ সালে কংগ্রেস সভাপতির দ্বিতীয় নির্বাচিত মেয়াদ থেকে পদত্যাগের পর তাঁর বক্তব্যের দৃশ্য। পাশাপাশি রয়েছে ডা. শিশির কুমার বসুর একটি সাক্ষাৎকার, যেখানে তিনি গ্রেট এস্কেপ কীভাবে পরিকল্পিত হয়েছিল এবং কীভাবে তা বাস্তবায়িত হয়, সেই রুদ্ধশ্বাস কাহিনি নিজে ব্যাখ্যা করেছেন।

🇮🇳 জয় হিন্দ! 🇮🇳

🌍 ইউরোপ রুম (এপ্রিল ১৯৪১ – ফেব্রুয়ারি ১৯৪৩)

সেন্ট্রাল গ্যালারি থেকে একটি দরজা পেরিয়ে দর্শনার্থীরা প্রবেশ করেন ইউরোপ রুমে। এখানে এপ্রিল ১৯৪১ থেকে ফেব্রুয়ারি ১৯৪৩ পর্যন্ত নেতাজির ইউরোপীয় সময়কাল বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রবেশমুখেই দর্শনার্থীদের অভ্যর্থনা জানায় সুভাষচন্দ্র বসুর এক বিস্ময়কর আলোকচিত্র, যেখানে তিনি অরল্যান্ডো মাজ্জোত্তা (Orlando Mazzotta) হিসেবে প্রকাশিত। এই ইতালীয় ছদ্মপরিচয় ব্যবহার করেই তিনি কাবুল থেকে সমরকন্দ ও মস্কো হয়ে বার্লিনে পৌঁছেছিলেন।

ছবিটির ঠিক নিচে একটি কাঁচের কেসে রাখা আছে ব্রিটিশ সরকারের সর্বোচ্চ স্তর থেকে জারি করা তাঁর হত্যার অনুমোদনসংক্রান্ত দুটি আদেশের প্রতিলিপি। ২০০৫ সাল পর্যন্ত—যখন নেতাজি রিসার্চ ব্যুরো ব্রিটিশ আর্কাইভ থেকে এই নথিগুলি সংগ্রহ করে—জানা ছিল না যে আদেশগুলি ১৯৪১ সালের প্রথমার্ধেই জারি হয়েছিল।

এছাড়াও এখানে প্রদর্শিত রয়েছে বার্লিনে পৌঁছানোর পর ভিয়েনায় এক বন্ধুকে লেখা তাঁর চিঠি, যেখানে তিনি উত্তর পাঠাতে অনুরোধ করেছিলেন ‘O. Mazzotta’ নামে।

ইউরোপ রুমে আরও দেখা যায় যুদ্ধকালীন জার্মানিতে গঠিত ইন্ডিয়ান লেজিয়ন-এর অফিসার ও সৈনিকদের সঙ্গে নেতাজির আলোকচিত্র, বার্লিনের সোফিয়েনস্ট্রাসে-তে তাঁর বাসভবনের বাগানে তোলা ছবি, এবং ২৯ মে ১৯৪২ তারিখে বার্লিনের রাইখ চ্যান্সেলারিতে হিটলারের সঙ্গে তাঁর একমাত্র সাক্ষাতের ছবি।

যুদ্ধকালীন জার্মানিতে অবস্থানকালে নেতাজির পরিধান করা ভারতীয় ধাঁচের কোট ও অন্যান্য পোশাক প্রদর্শিত হচ্ছে। পাশাপাশি জার্মান কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত একটি অলংকৃত সিগার কেসও সংরক্ষিত রয়েছে।

১৯৪১ সালের শেষভাগে বার্লিনে তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত ‘ফ্রি ইন্ডিয়া সেন্টার’-এর প্রকাশনাসমূহও এই কক্ষে প্রদর্শিত হয়েছে, যা সেই সময়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও স্বাধীনতা সংগ্রামের জোরালো প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

🏛️ বার্লিনের দিনলিপি ও সংগ্রামের এক বিরল অধ্যায়

🚢 সাবমেরিন অভিযান (ফেব্রুয়ারি - এপ্রিল ১৯৪৩)

ইউরোপ রুমের প্রদর্শনী শেষ হয় একাধিক রোমাঞ্চকর আলোকচিত্রের মাধ্যমে, যেখানে দেখা যায় ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল ১৯৪৩ পর্যন্ত ইউরোপ থেকে এশিয়ার পথে যাত্রারত অবস্থায় নেতাজিকে জার্মান ইউ-বোটে। এই প্রদর্শনীতে রয়েছে—ইউ-বোটের ছাদের ওপর একাকী দাঁড়িয়ে থাকা নেতাজির ছবি, সাবমেরিনের কমান্ডার ভার্নার মুসেনবার্গের সঙ্গে তাঁর আলোকচিত্র, এবং এই ঐতিহাসিক অভিযানে তাঁর একমাত্র ভারতীয় সঙ্গী আবিদ হাসানের সঙ্গে তোলা ছবি।

এছাড়াও রয়েছে ১৯৪৩ সালের এপ্রিলের শেষভাগে তোলা একটি চিত্র, যেখানে উত্তাল ভারত মহাসাগরের জলে, মাদাগাস্কারের উপকূলে, একটি ইউ-বোট থেকে রাবারের ডিঙ্গিতে করে নেতাজিকে অপেক্ষমাণ একটি জাপানি সাবমেরিনে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এই জাপানি সাবমেরিনে যাত্রার শেষপর্ব সম্পন্ন হয়, যা মে মাসের মাঝামাঝি সুমাত্রায় শেষ হয়।

ইউরোপ রুমে প্রদর্শিত হচ্ছে ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৩ তারিখে নেতাজির নিজের হাতে লেখা একটি বাংলা চিঠির প্রতিলিপি (ইংরেজি অনুবাদসহ), যা তিনি শরৎচন্দ্র বসুকে লিখেছিলেন। চিঠিতে তিনি তাঁর স্ত্রী ও সদ্যোজাত কন্যাসন্তানের খোঁজ জানিয়েছিলেন।

🌏 এশিয়া রুম: স্বাধীনতার চূড়ান্ত যুদ্ধপর্ব

এরপর দর্শনার্থীরা প্রবেশ করেন জাদুঘরের এশিয়া রুমে, যা ভারতের স্বাধীনতার চূড়ান্ত যুদ্ধপর্বকে নাটকীয়তা ও বীরত্বের সঙ্গে জীবন্ত করে তোলে। এই কক্ষের প্রদর্শনী শুরু হয়েছে মে ১৯৪৩-এ পূর্ব এশিয়ায় নেতাজির আগমন দিয়ে। পরবর্তী পর্যায়ে উঠে আসে টোকিও সফরের দৃশ্য, যেখানে তিনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে জাপানের সহযোগিতা নিশ্চিত করেন।

এরপর ১৯৪৩ সালের জুলাইয়ের শুরুতে নেতাজি সিঙ্গাপুরে পৌঁছান এবং ভারতীয় জাতীয় সেনা (INA) ও আজাদ হিন্দ আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। এখানে প্রদর্শিত হয়েছে পূর্ব এশিয়ায় তাঁকে নিয়ে আসা জাপানি সাবমেরিনের নাবিকদের সঙ্গে নেতাজির আলোকচিত্র, এবং তাঁর আগমনের সংবাদ জানিয়ে প্রকাশিত জাপানি সংবাদপত্রের প্রথম পাতার শিরোনামের প্রতিলিপি।

⚔️ আজাদ হিন্দ ফৌজের বীরগাথা শুরু...

এরপর প্রদর্শিত হয়েছে নেতাজি ১৯৪৩ সালের জুলাইয়ের শুরুতে সিঙ্গাপুরের পদাং (সমুদ্র তীরবর্তী মাঠ) এ অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক INA শোভাযাত্রায় সালাম গ্রহণ করার আলোকচিত্র। তারপর দেখা যায় নেতাজিকে রানী অব ঝাঁসি রেজিমেন্ট—যা তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে গঠিত ছিল এবং সম্পূর্ণ নারীদের দ্বারা পরিচালিত একটি যোদ্ধা বাহিনী—পরিদর্শন করতে। পাশাপাশি রয়েছে ২১ অক্টোবর ১৯৪৩ তারিখে নেতাজি আরজি হুকুমাত-এ আজাদ হিন্দ (Provisional Government of Free India) ঘোষণা পাঠের ছবি।

নভেম্বরের প্রথমে নেতাজি টোকিও সফর করেন, গ্রেটার ইস্ট এশিয়া কনফারেন্সে ভাষণ দেন এবং জাপানের সম্রাটের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ডিসেম্বরের শেষের দিকে তিনি আন্দামান দ্বীপ সফর করেন, সেলুলার জেল পরিদর্শন করেন এবং শিবিরে মৃত্যুবরণ করা স্বাধীনতাকামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এশিয়া রুমে আছে নেতাজির INA-র সুপ্রিম কমান্ডার হিসেবে পরিধান করা বুট, ক্যাপ, বেল্ট, এবং ১৯৪৩ সালের দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর সিঙ্গাপুরের বাসভবনের ডেস্ক ও চেয়ার

কেন্দ্রে রাখা হয়েছে একটি দীর্ঘ কাঁচের কেসে সামুরাই তলোয়ার, যা ১৯৪৩ সালের নভেম্বরে টোকিও থেকে নেতাজিকে উপহার দেওয়া হয়েছিল। ১৯৬৭ সালে জেনারেল ফুজিওয়ারা ইওয়াচি এটি ভারতে আনে এবং নেতাজি ভবনে ডা. শিশির কুমার বসুকে হস্তান্তর করেন।

কিন্তু সম্ভবত সবচেয়ে স্পর্শকাতর প্রদর্শনীটি দেখা যায় এশিয়া রুমের এক কোণে ছোট একটি কাঁচের কেসে—একটি পুরানো মালা, যা নেতাজিকে ২১ অক্টোবর ১৯৪৩ সালে সিঙ্গাপুরে দেওয়া হয়েছিল। এই মালা নেতাজিকে সম্মান জানানো মানুষের প্রেম ও ভক্তির জীবন্ত সাক্ষ্য।

এরপর, এশিয়া রুমের এক দেয়ালে ১৯৪৪ সালে INA-এর ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে সাহসী অভিযান প্রদর্শিত হয়েছে।

শেষ দেয়ালে ১৯৪৫ সালের ঘটনাবলি তুলে ধরা হয়েছে। রয়েছে ৮ জুলাই ১৯৪৫ সালে সিঙ্গাপুরের সমুদ্র তীরবর্তী INA শহিদ স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তি প্রস্থাপন করার আলোকচিত্র। এই স্মৃতিস্তম্ভে খোদাই করা ছিল ‘ইত্তেফাক, ইতমাদ, কুরবানি’। নেতাজি সিঙ্গাপুর ত্যাগ করার পর মধ্য আগস্টে এটি উদ্বোধন করা হয়, এবং সেপ্টেম্বরের শুরুতে ব্রিটিশরা সিঙ্গাপুর পুনর্দখলের সময় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করে।

এছাড়াও রয়েছে নেতাজির শেষ “Order of the Day” প্রতিলিপি—যা তিনি INA-এর সুপ্রিম কমান্ডার ও আরজি হুকুমাত-এ আজাদ হিন্দ-এর প্রধান হিসেবে সিঙ্গাপুর ত্যাগের আগে জারি করেছিলেন। ১৭ আগস্ট ১৯৪৫ সালে সাইগন বিমানবন্দরে নেতাজি বিমানে নেমে আসার শেষ জানা আলোকচিত্রও প্রদর্শিত।

এশিয়া রুম থেকে বের হওয়ার আগে দর্শনার্থীরা দেখতে পান টেলিভিশনে প্রদর্শিত একটি ডকুমেন্টারি ফুটেজের কোলাজ। ফুটেজে দেখা যায় নেতাজি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় INA অফিসার, সৈনিক ও ভারতীয় জনগণের উত্সাহপূর্ণ অভ্যর্থনা গ্রহণ করছেন, জুলাই ১৯৪৩-এ সিঙ্গাপুরে সৈনিক ও নাগরিকদের সমাবেশে ভাষণ দিচ্ছেন, ১৯৪৪ সালের প্রথম দিকে অরাকান ফ্রন্টে সাহসিকতার জন্য INA অফিসার (মেজর এল.এস. মিশ্রা)-কে সন্মানিত করছেন, এবং INA সেনাদের ভারত মুক্ত করতে বার্মা ত্যাগের সময় সালাম করছেন ও ভাষণ দিচ্ছেন।

ফুটেজ শেষ হয় মণিপুরের বনাঞ্চল দিয়ে INA সৈন্যদের মিছিলের দৃশ্যে—তারা নেতাজির ছবি এবং জাতীয় ত্রিবর্ণ পতাকা উঁচিয়ে ধরে এগিয়ে যাচ্ছে।

🌐 পুরো নেতাজি জাদুঘরের ভার্চুয়াল ভ্রমণ—নেতাজির শয়নকক্ষ, শরৎ বসু কক্ষ এবং প্রথম তলার নেতাজি অফিস, এবং দ্বিতীয় তলার সেন্ট্রাল গ্যালারি, ইউরোপ রুম ও এশিয়া রুম—‘Virtual Tour’ শীর্ষক ছয়টি লিঙ্কে ক্লিক করে ওয়েবসাইটের হোমপেজ থেকে অ্যাক্সেস করা যায়।
🇮🇳 জয় হিন্দ! 🇮🇳

🏛️ নেতাজি রিসার্চ ব্যুরো (NRB)

গবেষণা ও ঐতিহ্যের আধুনিক মেলবন্ধন


🎭 শরৎ বসু হল

১৯৭৩ সালের জানুয়ারিতে উদ্বোধিত এই অডিটোরিয়ামটি গত পাঁচ দশক ধরে অসংখ্য সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সাক্ষী। ২০২০ সালে পুনর্নির্মিত এই হলটিতে বর্তমানে ১০০ জনের বসার আরামদায়ক ব্যবস্থা ও আধুনিক প্রদর্শনী কক্ষ রয়েছে।

🏟️ নেতাজি প্যাভিলিয়ন

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে প্রফেসর কৃষ্ণা বসু এটি উদ্বোধন করেন। ৪০০ আসনের এই বিশাল অডিটোরিয়ামটি এখন নেতাজির জন্মজয়ন্তীসহ NRB-এর সব বড় অনুষ্ঠানের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

📌 নেতাজি ভবন এখন কেবল একটি জাদুঘর নয়, বরং নেতাজির আদর্শ ও গবেষণার এক আধুনিক বিদ্যাপীঠ।

🗺️ দর্শনার্থীদের জন্য নির্দেশিকা ও যাতায়াত

ঠিকানা: ৩৮/২, লালা লাজপত রায় (এলগিন) সরণি, কলকাতা


🎫 টিকেট মূল্য ⏰ সময়সূচী
প্রাপ্তবয়স্ক: ৫০ টাকা
শিশু (১২ বছরের নিচে): ২০ টাকা
* টিকেট ফেরতযোগ্য নয়
মঙ্গল - রবিবার: সকাল ১১টা – সন্ধ্যা ৬টা
সোমবার ও ছুটির দিন: বন্ধ

📜 নিয়ম ও বিশেষ সুবিধা

  • ফটোগ্রাফি: বাড়ির বাইরে ছবি তোলা গেলেও অভ্যন্তরে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
  • সুযোগ-সুবিধা: বয়স্ক বা অসুস্থদের জন্য লিফট ও হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা রয়েছে।
  • অনুভূতি: এখানে আসা মানেই জীবন্ত ইতিহাসের মুখোমুখি হওয়া।
🇮🇳 জয় হিন্দ! 🇮🇳

🗺️ কিভাবে যাবেন?


🚆 মেট্রো পথে যাতায়াত:
  • রবীন্দ্র সদন স্টেশন: এটিই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ৩ বা ৪ নম্বর গেট দিয়ে বেরিয়ে ১৫ মিনিট হাঁটলেই পৌঁছে যাবেন নেতাজির বাড়ি।
  • নেতাজি ভবন স্টেশন: এখান থেকেও পৌঁছানো যায়, তবে হাঁটার পথ রবীন্দ্র সদনের তুলনায় কিছুটা বেশি হবে।

"ভালোবেসে যে কাজ করা হয়, তাতে সমৃদ্ধি আসে।"

আর দেরি কেন, একদিন সময় করে ঘুরে আসুন ইতিহাসের এই অমূল্য তীর্থস্থানে। আর যারা দূরে আছেন বা যেতে পারছেন না, তাদের জন্য এই ভার্চুয়াল ভ্রমণটি রইলো।

🇮🇳 জয় হিন্দ! 🇮🇳

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to ensure you get the best experience on our website. Learn More
Ok, Go it!