দেশী ট্যাংরা মাছ: হারিয়ে যেতে বসা সুস্বাদু মিঠে জলের মাছ

লালপেঁচা (LalPecha.in)
0

 

ভূমিকা
দেশী ট্যাংরা মাছ (Mystus vittatus) বাংলাদেশের জলজ জীববৈচিত্র্যের একটি পরিচিত নাম। মিঠে জলের এই মাছটি শুধু সুস্বাদুই নয়, স্থানীয় খাদ্য সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশও। তবে জলাশয় দূষণ, অতিরিক্ত শিকার এবং আবাসস্থলের সংকোচনের ফলে এই প্রজাতি আজ হুমকির মুখে।

দেশী ট্যাংরা মাছের বৈজ্ঞানিক বিবরণ

  • বৈজ্ঞানিক নাম: Mystus vittatus (Bloch)
  • বাংলা নাম: দেশী ট্যাংরা, সোনা ট্যাংরা, পুকুরের ট্যাংরা, বুজরি ট্যাংরা

শারীরিক বৈশিষ্ট্য

  • আকার: সাধারণত বাজারে ৫-৬ ইঞ্চি দীর্ঘ মাছ পাওয়া যায়। মেয়ে মাছ একই বয়সের পুরুষ মাছের তুলনায় বড় হয়।
  • শুঁড়: মুখে চার জোড়া শুঁড়, যার মধ্যে উপর ঠোঁটের শুঁড় পায়ুপাখনা ছাড়িয়ে যায়।
  • পাখনা: পিঠে দুটি পাখনা থাকে—মূল পিঠ পাখনা ও নরম অতিরিক্ত পিঠ পাখনা। মূল পাখনায় শক্ত, খাঁজকাটা সুচালো কাঁটা থাকে।
  • রঙ: হালকা সোনালী আভাযুক্ত দেহ, মাথা ও পিঠের দিক কালচে। কানকোর গোড়ায় বড় কালো ছোপ এবং লেজ পর্যন্ত ৪-৫টি লম্বা কালো দাগ থাকে।

আবাস ও স্বভাব

  • আবাসস্থল: দেশী ট্যাংরা মূলত মিঠে জলের মাছ, যা খাল, বিল, পুকুর, এবং ঝিলের মতো জায়গায় পাওয়া যায়। বর্ষার সময় বন্যার জলে এরা নদী, খাঁড়ি, এমনকি ধানক্ষেতেও ছড়িয়ে পড়ে।
  • খাদ্যাভ্যাস: জলজ পোকামাকড়, কেঁচো এবং অন্যান্য ছোট প্রাণী এদের প্রধান খাদ্য।
  • প্রজনন: বর্ষাকালে হলুদ রঙের ডিম পাড়ে। ডিমগুলো বর্ষার জলে ভেসে বিভিন্ন জলাশয়ে পৌঁছে যায়।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও জনপ্রিয়তা

দেশী ট্যাংরা মাছ ট্যাংরা প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে সুস্বাদু। এই মাছ স্থানীয় বাজারে চাহিদা সম্পন্ন এবং উচ্চ মূল্যে বিক্রি হয়। এছাড়াও অ্যাকোয়ারিয়ামের শৌখিন মাছ হিসেবেও এর ব্যবহার রয়েছে।

সদৃশ প্রজাতি ও বিভ্রান্তি

দেশী ট্যাংরা মাছ অনেক সময় নোনা ট্যাংরার সাথে গুলিয়ে ফেলা হয়। তবে নোনা ট্যাংরার তুলনায় দেশী ট্যাংরার পিঠের পাখনার বিন্যাস ভিন্ন।

পরিবেশগত পরিস্থিতি

গত কয়েক বছরে দেশী ট্যাংরার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জলাশয় দূষণ, অতিরিক্ত শিকার এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থলের ক্ষতি এর প্রধান কারণ।

সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ

  1. স্থানীয় জলাশয়ের দূষণ প্রতিরোধ।
  2. অতিরিক্ত শিকার রোধে নিয়ন্ত্রণ।
  3. দেশী ট্যাংরা মাছের প্রজনন বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ।

উপসংহার

দেশী ট্যাংরা শুধুমাত্র খাদ্য হিসেবে নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই প্রজাতিকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সকলের।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to ensure you get the best experience on our website. Learn More
Ok, Go it!