কেদুলি মেলা : উৎপত্তি, ঐতিহাসিক বিকাশ ও লোকসংস্কৃতির আলোকে একটি আলোচনা

কেদুলি মেলা : উৎপত্তি, ঐতিহাসিক বিকাশ ও লোকসংস্কৃতির আলোকে একটি আলোচনা

লালপেঁচা (LalPecha.in)
0

কেদুলি মেলা কি?

বাংলার মধ্যযুগীয় ভক্তিধর্ম ও লোকসংস্কৃতির ইতিহাসে কেদুলি মেলা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ভক্তকবি জয়দেবকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই মেলা কেবল একটি ধর্মীয় সমাবেশ নয়, বরং এটি বাংলা লোকসমাজের ভক্তিচেতনা, সাহিত্যিক স্মৃতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক সম্মিলিত রূপ। আলোচ্য গ্রন্থে কেদুলি মেলার উৎপত্তি, তার ঐতিহাসিক বিকাশ এবং লোকসংস্কৃতিগত ভূমিকা বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে।

অজয় নদের পাড়ে ঐতিহাসিক জয়দেব কেঁদুলি গ্রামের দৃশ্য
অজয় নদের পাড়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক জয়দেব কেঁদুলি গ্রাম, যা শত শত বছর ধরে ভক্তি ও সুরের মূর্ছনায় মুখরিত।

কেদুলি মেলার উৎপত্তি

গ্রন্থ অনুযায়ী, কেদুলি মেলার উৎপত্তি সরাসরি ভক্তকবি জয়দেবের স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত। জয়দেবের জীবন ও সাধনার সঙ্গে কেদুলি অঞ্চলের সম্পর্ক লোকসমাজে সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত ছিল। তাঁর স্মরণে প্রথমে কেদুলিতে ছোট পরিসরে যে ভক্তিসভা, কীর্তন ও নামসংকীর্তনের আয়োজন হতো, তা-ই পরবর্তীকালে কেদুলি মেলার রূপ ধারণ করে।

কেদুলি মেলার উৎপত্তি কোনও রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা বা রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নয়। বরং এটি ছিল সম্পূর্ণভাবে লোকসমাজের বিশ্বাস, ভক্তি ও স্মৃতিচর্চার ফল। সাধারণ মানুষ জয়দেবকে কেবল একজন কবি হিসেবে নয়, একজন ভক্তসাধক ও আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক হিসেবে গ্রহণ করেছিল। সেই গ্রহণযোগ্যতারই সামাজিক প্রকাশ ছিল কেদুলি মেলা।

ঐতিহাসিক বিকাশ

গ্রন্থে দেখা যায় যে, প্রথমদিকে কেদুলি মেলা ছিল আঞ্চলিক ও সীমিত। আশপাশের গ্রাম থেকে বৈষ্ণব ভক্তরা এসে জড়ো হতেন। এখানে জয়দেবের গীতগোবিন্দ পাঠ, কীর্তন ও ভক্তিগানের মাধ্যমে তাঁর স্মরণ করা হতো। ধীরে ধীরে এই সমাবেশ বৃহত্তর আকার ধারণ করে।

ঐতিহাসিকভাবে কেদুলি মেলার গুরুত্ব এই কারণে বিশেষ যে, এটি চৈতন্য-পূর্ব বৈষ্ণব ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। জয়দেবের ভক্তিদর্শন ও সাহিত্যিক ভাবধারা যে পরবর্তীকালে বাংলার বৈষ্ণব আন্দোলনের ভিত্তি নির্মাণে সাহায্য করে, কেদুলি মেলা সেই ধারাবাহিকতার এক জীবন্ত সাক্ষ্য।

গ্রন্থকার দেখিয়েছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কেদুলি মেলা একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের গণ্ডি পেরিয়ে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত বৈষ্ণব সাধক, কীর্তনীয়া ও সাধারণ মানুষ এখানে মিলিত হতেন। এর ফলে কেদুলি মেলা মতবিনিময় ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের ক্ষেত্র হয়ে ওঠে।

কেদুলি মেলা ও লোকসংস্কৃতি

কেদুলি মেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল তার লোকসংস্কৃতিগত ভূমিকা। গ্রন্থে কেদুলি মেলাকে একটি জীবন্ত লোকসংস্কৃতির মঞ্চ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখানে ধর্ম ও সংস্কৃতি পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হয়ে এক বিশেষ রূপ ধারণ করেছে।

কেদুলি মেলায়—

  • জয়দেব ও পদ্মাবতীকে কেন্দ্র করে লোককথা প্রচলিত হয়
  • পালাগান ও কথকতার মাধ্যমে তাঁর জীবনকাহিনি পরিবেশিত হয়
  • কীর্তন, ভক্তিগীতি ও লোকসঙ্গীতের ধারায় গীতগোবিন্দ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়

এই সবকিছুর মাধ্যমে জয়দেবের সাহিত্য পুঁথিগত সীমা ছাড়িয়ে লোকসমাজে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

সামাজিক দৃষ্টিকোণ ও লোকবিশ্বাস

গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, কেদুলি মেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দিক হল সমতার বোধ। এখানে জাতপাত, উচ্চ-নিম্ন বা সামাজিক অবস্থানের ভেদাভেদ তুলনামূলকভাবে গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। ভক্তি এখানে প্রধান পরিচয়। এই সামাজিক সমতা জয়দেবের ভক্তিদর্শনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। তাঁর মতে, ঈশ্বরপ্রেম সকল মানুষের জন্য উন্মুক্ত। কেদুলি মেলা সেই দর্শনের সামাজিক বাস্তবায়ন।

কেদুলি মেলার সঙ্গে নানা লোকবিশ্বাস ও কিংবদন্তি জড়িত, যা গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে। জয়দেবের অলৌকিকতা, তাঁর ভক্তির শক্তি এবং পদ্মাবতীর সঙ্গে তাঁর জীবনকাহিনি—এসব গল্প মেলার আবহকে আরও গভীর করে তোলে। এই কিংবদন্তিগুলি ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য না হলেও, এগুলি লোকসমাজে জয়দেবের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাবের প্রমাণ বহন করে।

ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব

গ্রন্থকারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কেদুলি মেলার ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহুস্তরীয়। এটি একদিকে মধ্যযুগীয় বাংলার ভক্তিধর্মের ইতিহাসকে তুলে ধরে, অন্যদিকে লোকসংস্কৃতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করে।

কেদুলি মেলা দেখায়—

  • কীভাবে সাহিত্য লোকউৎসবে রূপ নিতে পারে
  • কীভাবে ভক্তিধর্ম সমাজে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গড়ে তোলে
  • কীভাবে লোকসমাজ নিজস্ব উদ্যোগে স্মৃতি সংরক্ষণ করে

জয়দেব কেঁদুলি: মন্দির ও মেলা

কোন পথ ধরে যাওয়া হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে জয়দেব কেঁদুলি আসানসোল থেকে প্রায় ৫০–৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। দুর্গাপুর থেকে দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। ইলামবাজারে অজয় নদীর উপর একটি সর্বমৌসুমি সেতু রয়েছে। এই পথটি আসানসোল থেকে সবচেয়ে দীর্ঘ। পাণ্ডবেশ্বর ও জয়দেব কেঁদুলিতে রয়েছে অস্থায়ী বা ন্যায্য-আবহাওয়ার সেতু, যা আসানসোল থেকে যাত্রাপথকে অনেকটা ছোট করে। জয়দেব কেঁদুলিতে একটি স্থায়ী সর্বমৌসুমি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা বহুদিন ধরেই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার বিষয়।

অজয় নদীর অস্থায়ী বাঁশের সেতু যা মেলার সময় ব্যবহৃত হয়
অজয় নদীর অস্থায়ী সেতু; যা মেলার সময় দুই তীরের মানুষের সংযোগস্থলে পরিণত হয়।

ষাটের দশকের শেষদিকে আমি ও আমার কয়েকজন বন্ধু সাইকেলে করে আসানসোল থেকে জয়দেব কেঁদুলিতে গিয়েছিলাম। আমরা পৌঁছেছিলাম অজয় নদীর অপর পাড়ে, মন্দিরের ঠিক উল্টো দিকে। তখন নদী পার হতে হয়েছিল কাঁধে সাইকেল নিয়ে ঠান্ডা জলের মধ্যে হেঁটে—আজকের মতো তখন অস্থায়ী সেতুও ছিল না। সে সময় গ্রামবাসীরা মেলার উপলক্ষে এক-দুটি ঘর ভাড়া দিতেন। আমরা পৌঁছনোর সময় আর কোনো ঘর খালি ছিল না। তবে মেলার আয়োজকরা আমাদের দুর্গা মণ্ডপের একটি ঘর বিনামূল্যে ব্যবহার করতে দেন। আমরা সেখানে সাইকেল তালাবদ্ধ করে রেখে মেলা দেখতে বেরিয়ে পড়ি।

আমরা শুনেছিলাম জয়দেব কেঁদুলির মেলা বড়, কিন্তু তা যে প্রায় দুই কিলোমিটার ব্যাসার্ধ জুড়ে বিস্তৃত—তা কল্পনাও করিনি। গ্রাম্য সংসারে প্রয়োজনীয় প্রায় সব জিনিসই পাওয়া হচ্ছিল—পাথরের বাসন থেকে শুরু করে প্লাস্টিকের খেলনা পর্যন্ত। নাগরদোলা বা মেরি-গো-রাউন্ডের মতো সাধারণ বিনোদনের ব্যবস্থা ছিল, ছিল নানা খাবারের দোকানও। মেলাটি টানা তিন দিন ধরে চলে। দোকানগুলোর সুস্বাদু খাবার আমরা বেশ উপভোগ করেছিলাম। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল বিশাল আকারের রাজভোগ, যা বিক্রি হচ্ছিল ‘গুপী গায়েন বাঘা বায়েন রাজভোগ’ নামে।

নবরত্ন রাধাবিনোদ মন্দির ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

নবরত্ন রাধাবিনোদ মন্দিরটি ছিল অসাধারণ টেরাকোটা অলঙ্করণে সমৃদ্ধ। ইন্দ্রজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বোলজি (Boloji) ওয়েবসাইটে লিখেছেন, “মুঘল আমলে জয়দেব কেঁদুলি সেনপাহাড়ি পরগনার অন্তর্ভুক্ত ছিল। সপ্তদশ শতকে আওরঙ্গজেব একটি ফরমানে সেনপাহাড়িকে বর্ধমান রাজ্যের কৃষ্ণরাম রায়ের সম্পত্তির সঙ্গে যুক্ত করেন। বিশ্বাস করা হয়, বর্ধমানের মহারানি ব্রজকিশোরী দেবী ১৬৮৩ সালে বর্ধমানের তৎকালীন রাজকবি ও জয়দেব কেঁদুলির বাসিন্দা যুগল কিশোর মুখোপাধ্যায়ের অনুরোধে রাধাবিনোদ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।”

রাধাবিনোদ মন্দিরের টেরাকোটা কাজ, যেখানে মধ্যযুগীয় বাংলার শৈল্পিক উৎকর্ষ ফুটে ওঠে।

জয়দেব কেঁদুলি দ্বাদশ শতকের সংস্কৃত কবি জয়দেবের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত—যিনি অমর কাব্য গীতগোবিন্দ রচনা করেছিলেন। মেলার সূচনা হয় সেই পুণ্যতিথিকে স্মরণ করে, যেদিন জয়দেব অজয় নদীর কাদম্বখণ্ডী ঘাটে স্নান করেছিলেন বলে লোকবিশ্বাস। জয়দেব বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা না বিহারের মিথিলা অঞ্চলের কোথায় জন্মেছিলেন—এই বিতর্ক আমি গবেষকদের উপরই ছেড়ে দিচ্ছি। তবে জয়দেব কেঁদুলির পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষ বিশ্বাস করে আসছে, কবি জয়দেবের জন্ম এখানেই। নানা লোককথা ও জনশ্রুতি এই অঞ্চলকে ঘিরে আবর্তিত। শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই বিশাল মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। জয়দেবের জন্মস্থান হিসেবে বিশ্বাস করা স্থানে রাধাবিনোদ মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই এলাকা স্থানীয় মানুষের কাছে পবিত্র তীর্থ হিসেবে গণ্য।

“গীতগোবিন্দ রচনার সময়, যেখানে রাধাকে আদ্যাশক্তি ও কৃষ্ণের থেকেও মহান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, কবি জয়দেব একটি বিশেষ ‘পদ’-এ এসে আটকে যান। সেখানে তিনি কৃষ্ণকে রাধার চরণ স্পর্শ করতে দেখাতে চেয়েছিলেন—যা হিন্দু রীতিতে বয়োজ্যেষ্ঠ ও গুরুজনের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক—কিন্তু কবিতায় তা রূপ দিতে পারছিলেন না। তিনি তখন রচনা স্থগিত রেখে অজয় নদীতে স্নান করতে যান। কিছুক্ষণ পর তাঁর স্ত্রী পদ্মাবতী দেখেন, জয়দেব ফিরে এসেছেন। তিনি পাণ্ডুলিপিতে কিছু লিখে ভোজন করেন এবং আবার বেরিয়ে যান। পরে যখন প্রকৃত জয়দেব ফিরে আসেন, তখন তিনি দেখেন পদ্মাবতী খাচ্ছেন—যা দেখে তিনি বিস্মিত হন, কারণ হিন্দু প্রথায় স্ত্রী স্বামীর আগে আহার করেন না। ভিতরে গিয়ে তিনি দেখেন, যে পঙ্‌ক্তিগুলো তিনি লিখতে পারেননি, সেগুলো ইতিমধ্যেই পাণ্ডুলিপিতে লেখা। কে লিখল? তখনই তাঁর বোধোদয় হয়—স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ নেমে এসে সেই পঙ্‌ক্তিগুলো লিখে গেছেন।”

বাউল সংস্কৃতি ও মেলার আকর্ষণ

জয়দেব কেঁদুলির মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বাউলরা। কয়েক হাজার বাউল এখানে সমবেত হন এবং প্রায় এক মাস ধরে ১৬০টি অস্থায়ী আখড়ায় অবস্থান করেন। বাউলরা হলেন একদল ভ্রাম্যমাণ সাধক, যাঁরা এক অনন্য সংগীতধারার বাহক। গেরুয়া পোশাক ও একতারার মাধ্যমে তাঁদের সহজেই চেনা যায়। বাউল সংগীত ইউনেস্কোর ‘মানবতার মৌখিক ও অমূল্য ঐতিহ্যের মাস্টারপিস’ তালিকাভুক্ত। মকর সংক্রান্তির রাতে তাঁরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে সারারাত গান করেন। তবে সাম্প্রতিক দশকগুলোতে কীর্তনীয়াদের জনপ্রিয়তা ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। তাঁরাও সারারাতব্যাপী কীর্তনের আসর বসান।

কেঁদুলি মেলার প্রাণভোমরা বাউল সাধকগণ, যাঁদের সুরের টানে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসে।

আমাদের সফরের কথায় ফিরি। বিভিন্ন জায়গায় বসে থাকা বাউলদের গান শুনে আমরা দারুণ উপভোগ করেছিলাম। এক জায়গায় একটি মজার গল্প শুনি। শোনা যায়, তরুণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাউল গানে আগ্রহী ছিলেন এবং বিখ্যাত বাউল লালন ফকিরের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। লালন ফকির তাঁকে বোঝান, বাউল গান তাঁদের হৃদয়ের কতটা কাছের। রবীন্দ্রনাথ বলেন, সংগীত তাঁরও খুব প্রিয়। তখন লালন ফকির নাকি প্রশ্ন করেন, “তুমি কি আমার মেয়েকে বিয়ে করবে?” রবীন্দ্রনাথ কোনো উত্তর দেননি—গল্পটি সেখানেই শেষ। গল্পটি সত্য না মিথ্যা, আমি জানি না।

ভোরের দিকে আমরা দুর্গা মণ্ডপের ঘরে ফিরে সামান্য বিশ্রাম নিই, তারপর পাণ্ডবেশ্বরের ন্যায্য-আবহাওয়ার সেতু পেরিয়ে আসানসোলে ফিরে আসি। এরপরেও আমি জয়দেব কেঁদুলিতে গিয়েছি, কিন্তু আর কখনো মেলার সময় নয়।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, কেদুলি মেলা ভক্তকবি জয়দেবের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এক অনন্য লোকধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। এর উৎপত্তি লোকবিশ্বাসে, বিকাশ ভক্তিধর্মে এবং স্থায়িত্ব লোকসংস্কৃতিতে। আলোচ্য গ্রন্থের আলোকে কেদুলি মেলা মধ্যযুগীয় বাংলার ভক্তিচেতনা ও লোকজ সংস্কৃতির এক জীবন্ত দলিল। এই মেলার মাধ্যমে জয়দেব আজও কেবল ইতিহাসের পাতায় নয়, বাংলার লোকজীবনে সক্রিয় ও প্রাসঙ্গিক হয়ে আছেন। জয়দেবের কবিতা যেমন কাগজে অমর, তেমনি কেদুলি মেলার মধ্য দিয়ে তাঁর স্মৃতি লোকসমাজে চিরজীবী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

Please Select Embedded Mode To show the Comment System.*

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Ok, Go it!