![]() |
| মৎস্যজীবীদের দেবতা মাকাল ঠাকুরের ফেটিসিজম প্রতীক |
আমাদের বাংলার পল্লী অঞ্চলে লোকবিশ্বাস ও আস্থার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো লৌকিক দেবতারা। এঁদের মধ্যে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছেন 'মাকাল' বা 'মাখাল ঠাকুর', যিনি মূলত গ্রামীণ মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের উপাস্য দেবতা। কিন্তু তাঁর আরাধনার পদ্ধতি, প্রতীক এবং প্রাচীন কাব্যে তাঁর উপস্থিতি এক গভীর রহস্যের ইঙ্গিত দেয়।
এই পোস্টে মাকাল ঠাকুরের আরাধনা, তার প্রতীকী তাৎপর্য এবং লৌকিক ধর্মবিশ্বাসে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
মাকাল ঠাকুর: এক নিরাকার প্রতীকী দেবতা
মাকাল ঠাকুরের মূর্তি বা মানুষের আকৃতির (anthropomorphic) কোনো রূপ নেই। এটাই তাঁকে অন্যান্য দেব-দেবীর থেকে আলাদা করে তোলে।
দেবতার প্রতীক: মাটির তৈরি ছোট একটি বা একসঙ্গে দুটি স্তূপ দেবতার প্রতীক হিসেবে পূজিত হয়।
আকৃতি: এই স্তূপের আকৃতি অনেকটা মাটির তৈরি গ্লাস উল্টো করে রাখলে যেমন দেখায়, অথবা টোপরের মতো।
প্রাচীনত্বের ইঙ্গিত: এই ধরনের প্রতীকী স্তূপ বা 'ফেটিসিজম' যুগের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন আদিম মানুষ মাটির ঢেলা বা পাথরের চাঁই কেটে দেবতা তৈরি করত।
🙏 মাকাল ঠাকুরের আরাধনা পদ্ধতি: সরলতা ও বিশ্বাসের মেলবন্ধন
মৎস্যজীবীরা কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা সময় ছাড়াই জলাশয়ে মাছ ধরার আগে এর পূজা করেন। এই পূজার বিশেষত্ব হলো এর অনাড়ম্বরতা এবং ব্রাহ্মণ বা মন্ত্রের অনুপস্থিতি।

