AMI Arts Festival at Indian Museum | Noukoghar Bengal Boat Heritage | Debalgarh Museum
নৌকাঘর: বাংলার জলসভ্যতার এক অনন্য উপাখ্যান
AMI Arts Festival–এর আবহে দেবালগড় মিউজিয়ামের (Debalgarh Museum) প্রতিনিধি হয়ে ভারতীয় মিউজিয়ামের প্রদর্শনীস্থলে দিনটি সত্যিই আলাদা হয়ে রইল। ছবিতে ধরা পড়েছে সেই মুহূর্ত, যেখানে গবেষণা, প্রদর্শনী আর মানুষের উপস্থিতি একসঙ্গে মিলেমিশে গেছে। ‘নৌকাঘর (Noukoghar)’ ভাবনাকে ঘিরে তৈরি এই পরিসরে এসে অধ্যাপক ড. স্বরূপ ভট্টাচার্যের সঙ্গে প্রথমবার সামনাসামনি দেখা হওয়াটা আমার কাছে নিছক একটি সাক্ষাৎ নয়, বরং এক দীর্ঘ গবেষণাধারার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাওয়ার অনুভূতি।
"নৌকা এখানে কেবল বস্তু নয়, বরং স্মৃতি, শ্রম আর সংস্কৃতির ধারক।"
প্রদর্শনীতে রাখা নৌকার মডেলগুলো দেখলেই বোঝা যায়—এগুলো কেবল কাঠ আর নকশার কাজ নয়। নৌকার গঠন, নির্মাণপ্রক্রিয়া আর মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে তার সম্পর্ক—সব মিলিয়ে প্রতিটি উপাদান যেন বাংলার জলসভ্যতার বহু বছরের গল্প বলছে। ছবির একদিকে গবেষণাভিত্তিক নৌকা, অন্যদিকে মানুষ—এই সহাবস্থানই মনে করিয়ে দেয়, নৌকা এখানে একটি বস্তু নয়, বরং স্মৃতি, শ্রম আর সংস্কৃতির ধারক। ‘নৌকাঘর’—বাংলার নৌকার আবাস—এই ভাবনার মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে অধ্যাপক স্বরূপ ভট্টাচার্যের anthropological দৃষ্টিভঙ্গি। ১৯৯৭ সাল থেকে বাংলার নৌকা নিয়ে তাঁর নিরলস গবেষণা, ডেনমার্কের ভাইকিং শিপ মিউজিয়াম ও যুক্তরাজ্যের সাউথ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ, ভারতীয় জাদুঘর থেকে লোথালের ন্যাশনাল মেরিটাইম মিউজিয়াম পর্যন্ত তাঁর দীর্ঘ পথচলা—সব মিলিয়ে আজকের এই সাক্ষাৎ শুধুই পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং বাংলার নদী, মানুষ আর নৌকার সম্পর্ককে নতুন করে বুঝে নেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয় ছবিটিতে সেই অনুভূতিটাই ধরা আছে—একটি প্রদর্শনী, দুটি মানুষ, আর মাঝখানে বাংলার নৌকা-সংস্কৃতির দীর্ঘ ইতিহাস। নৌকার কাঠ, গঠন আর মানুষের স্মৃতির মধ্যে যে অদৃশ্য বন্ধন, আজ এই অনুষ্ঠানেই, এই নৌকাঘর ভাবনার পাশে দাঁড়িয়ে, তা আরও স্পষ্ট ও জীবন্ত হয়ে উঠল। স্যার ভালো থাকবেন, সৃষ্টি থাকবেন। আবার দেখা হবে খুব তাড়াতাড়িই কোনো না কোনো স্থানে।
We welcome thoughtful discussions. Comments are moderated for quality